Chalisa বাংলা (Bengali) Hanuman

শ্রী হনুমান চালীসা

শ্রী হনুমান চালীসা – Hanuman Chalisa in Bengali

বাংলায় শ্রী হনুমান চালীসা পাঠ, অনুবাদ ও ভাবার্থ।

শ্রী হনুমান চালীসা - Bengali
Text:
দোহা Doha দোহা (Dual View) দোহা (ভাবার্থ)
শ্রীগুরু চরন সরোজ রজ, নিজ মনু মুকুরু সুধারি।
বরনউঁ রঘুবর বিমল জসু, জো দাযকু ফল চারি॥
বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌ পবন-কুমার।
বল বুধি বিদ্যা দেহু মোহিং, হরহু কলেস বিকার॥
Shri Guru Charan Saroj Raj, Nij Manu Mukuru Sudhari.
Baranau Raghubar Bimal Jasu, Jo Dayaku Phal Chari.
Buddhiheen Tanu Janike, Sumirau Pawan-Kumar.
Bal Budhi Bidya Dehu Mohin, Harahu Kales Bikar.
চৌপাঈ Chaupai চৌপাঈ (Dual View) চৌপাঈ (ভাবার্থ)
জয হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয কপীস তিহুঁ লোক উজাগর॥ ॥ ১ ॥
Jai Hanuman Gyan Gun Sagar, Jai Kapis Tihun Lok Ujagar.
ভাবার্থ: গোস্বামী তুলসীদাস বিরচিত শ্রী হনুমান চালীসা সনাতন ভক্তিসাহিত্যের এক অনুপম আধ্যাত্মিক রত্ন। কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই পবিত্র স্তোত্র শুধুমাত্র একটি কাব্য নয়, বরং সংকটমোচন ও অভয়লাভের পরম আশ্রয়। বাংলা ভাষায় হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa in Bengali) পাঠ করার সময় এর প্রতিটি চৌপাই ও দোহার অন্তর্নিহিত ভাবার্থ উপলব্ধি করা সাধনার গভীরতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে। এই স্তোত্রের মূল ভাব চারটি প্রধান আধ্যাত্মিক স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত:
রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অংজনি-পুত্র পবনসুত নামা॥ ॥ ২ ॥
Ram Doot Atulit Bal Dhama, Anjani Putra Pawan Sut Nama.
ভাবার্থ: শ্রীরামের প্রতি অনন্য ভক্তি ও দাস্য ভাব: হনুমানজীর সমগ্র অস্তিত্ব শ্রীরামচন্দ্রের চরণকমলে সমর্পিত। চালিশার সারকথা হলো—যেখানে রামভক্তি পূর্ণতা পায়, সেখানেই পবনপুত্রের কৃপা স্বভাবসিদ্ধ রূপ লাভ করে। শক্তি ও বিনম্রতার অনুপম সমন্বয়: শ্রীহনুমান অতুলনীয় বীর ও অপরিমেয় শক্তির আধার। তিনি সাগর লঙ্ঘন করেছিলেন ও লঙ্কা দহন করেছিলেন, অথচ তাঁর অন্তরে লেশমাত্র অহংকার ছিল না। এই শ্লোকমালা আমাদের শিক্ষা দেয় যে অপরিসীম ক্ষমতার মাঝেও বিনম্র ও নির্লোভ থাকা প্রকৃত জ্ঞান। ভয়মুক্তি ও সংকট নিবারণ: "ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥" — ভক্ত হৃদয়ে এই পংক্তি সর্বপ্রকার মানসিক ভীতি, শোক ও অনিশ্চয়তা দূর করে এক অবিচল নির্ভরতা এনে দেয়। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিঃস্বার্থ সেবা: হনুমানজী হলেন জ্ঞান গুণ সাগর। তিনি অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধির দাতা। তাঁর জীবন নিঃস্বার্থ লোককল্যাণ ও ঈশ্বরের আদেশ পালনের শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত।
মহাবীর বিক্রম বজরংগী। কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী॥ ॥ ৩ ॥
Mahavir Bikram Bajrangi, Kumati Nivar Sumati Ke Sangi.
কংচন বরন বিরাজ সুবেসা। কানন কুংডল কুংচিত কেসা॥ ॥ ৪ ॥
Kanchan Baran Biraj Subesa, Kanan Kundal Kunchit Kesa.
হাথ বজ্র ও ধ্বজা বিরাজৈ। কাঁধে মূঁজ জনেঊ সাজৈ॥ ॥ ৫ ॥
Hath Bajra O Dhwaja Birajai, Kandhe Munj Janeu Sajai.
সংকর সুবন কেসরীনংদন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বংদন॥ ॥ ৬ ॥
Sankar Suvan Kesarinandan, Tej Pratap Maha Jag Bandan.
বিদ্যাবান গুনী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥ ॥ ৭ ॥
Vidyawan Guni Ati Chatur, Ram Kaj Karibe Ko Aatur.
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিযা। রাম লখন সীতা মন বসিযা॥ ॥ ৮ ॥
Prabhu Charitra Sunibe Ko Rasiya, Ram Lakhan Sita Man Basiya.
সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিযহিং দিখাবা। বিকট রূপ ধরি লংক জরাবা॥ ॥ ৯ ॥
Sukshma Roop Dhari Siyahin Dikhawa, Bikat Roop Dhari Lanka Jarawa.
ভীম রূপ ধরি অসুর সঁহারে। রামচংদ্র কে কাজ সঁবারে॥ ॥ ১০ ॥
Bhim Roop Dhari Asur Samhare, Ramchandra Ke Kaj Samware.
লায সজীবন লখন জিযাযে। শ্রীরঘুবীর হরষি উর লাযে॥ ॥ ১১ ॥
Laye Sanjivan Lakhan Jiyaye, Shri Raghubir Harashi Ur Laye.
রঘুপতি কীহ্নী বহুত বড়াঈ। তুম মম প্রিয ভরতহি সম ভাঈ॥ ॥ ১২ ॥
Raghupati Keenhi Bahut Badai, Tum Mam Priya Bharatahi Sam Bhai.
সহস বদন তুম্হরো জস গাবৈং। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈং॥ ॥ ১৩ ॥
Sahas Badan Tumharo Jas Gavain, As Kahi Shripati Kanth Lagavain.
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীসা। নারদ সারদ সহিত অহীসা॥ ॥ ১৪ ॥
Sanakadik Brahmadi Munisa, Narad Sarad Sahit Ahisa.
জম কুবের দিগপাল জহাঁ তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে॥ ॥ ১৫ ॥
Jam Kuber Digpal Jahan Te, Kabi Kobid Kah Sake Kahan Te.
তুম উপকার সুগ্রীবহিং কীহ্না। রাম মিলায রাজ পদ দীহ্না॥ ॥ ১৬ ॥
Tum Upakar Sugreevahin Keenha, Ram Milay Raj Pad Deenha.
তুম্হরো মংত্র বিভীষন মানা। লংকেস্বর ভএ সব জগ জানা॥ ॥ ১৭ ॥
Tumharo Mantra Vibhishan Mana, Lankeswar Bhaye Sab Jag Jana.
জুগ সহস্র জোজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥ ॥ ১৮ ॥
Jug Sahastra Yojan Par Bhanu, Leelyo Tahi Madhur Phal Janu.
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহীং। জলধি লাঁঘি গযে অচরজ নাহীং॥ ॥ ১৯ ॥
Prabhu Mudrika Meli Mukh Maheen, Jaladhi Langhi Gaye Achraj Naheen.
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুম্হারে তেতে॥ ॥ ২০ ॥
Durgam Kaj Jagat Ke Jete, Sugam Anugraha Tumhre Tete.
রাম দুআরে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥ ॥ ২১ ॥
Ram Duware Tum Rakaware, Hot Na Agya Binu Paisare.
সব সুখ লহৈ তুম্হারী সরনা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না॥ ॥ ২২ ॥
Sab Sukh Lahai Tumhari Sarna, Tum Rakshak Kahu Ko Dar Na.
আপপন তেজ সম্হারো আপৈ। তীনোং লোক হাঁক তেং কাঁপৈ॥ ॥ ২৩ ॥
Aapan Tej Samharo Aapai, Teenon Lok Hank Te Kanpai.
ভূত পিসাচ নিকট নহিং আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥ ॥ ২৪ ॥
Bhoot Pisach Nikat Nahin Aavai, Mahavir Jab Naam Sunavai.
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরংতর হনুমত বীরা॥ ॥ ২৫ ॥
Nasai Rog Harai Sab Peera, Japat Nirantar Hanumat Beera.
সংকট তেং হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥ ॥ ২৬ ॥
Sankat Te Hanuman Chhudavai, Man Kram Bachan Dhyan Jo Lavai.
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিন কে কাজ সকল তুম সাজা॥ ॥ ২৭ ॥
Sab Par Ram Tapaswee Raja, Tin Ke Kaj Sakal Tum Saja.
ঔর মনোরথ জো কোঈ লাবৈ। সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ॥ ॥ ২৮ ॥
Aur Manorath Jo Koi Lavai, Soi Amit Jeevan Phal Pavai.
চারোং জুগ পরতাপ তুম্হারা। হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিযারা॥ ॥ ২৯ ॥
Charon Jug Partap Tumhara, Hai Parsiddhi Jagat Ujiyara.
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥ ॥ ৩০ ॥
Sadhu Sant Ke Tum Rakaware, Asur Nikandan Ram Dulare.
অষ্ট সিদ্ধি নৌ নিধি কে দাতা। অস বর দীন্হ জানকী মাতা॥ ॥ ৩১ ॥
Ashta Siddhi Nau Nidhi Ke Data, As Bar Deenh Janaki Mata.
রাম রসাযন তুম্হরে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥ ॥ ৩২ ॥
Ram Rasayan Tumhre Pasa, Sada Raho Raghupati Ke Dasa.
তুম্হরে ভজন রাম কো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥ ॥ ৩৩ ॥
Tumhre Bhajan Ram Ko Pavai, Janam Janam Ke Dukh Bisravai.
অন্ত কাল রঘুবর পুর জাঈ। জহাঁ জন্ম হরি-ভক্ত কহাঈ॥ ॥ ৩৪ ॥
Ant Kal Raghubar Pur Jai, Jahan Janam Hari-Bhakt Kahai.
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ। হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ॥ ॥ ৩৫ ॥
Aur Devta Chitt Na Dharai, Hanumat Sei Sarba Sukh Karai.
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা॥ ॥ ৩৬ ॥
Sankat Katai Mitai Sab Peera, Jo Sumirai Hanumat Balbeera.
জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাঈং। কৃপা করহু গুরু দেব কী নাঈং॥ ॥ ৩৭ ॥
Jai Jai Jai Hanuman Gosain, Kripa Karahu Gurudev Ki Nain.
জো সত বার পাঠ কর কোঈ। ছূটহি বংদি মহা সুখ হোঈ॥ ॥ ৩৮ ॥
Jo Sat Bar Path Kar Koi, Chhootahi Bandi Maha Sukh Hoi.
জো যহ পঢ়ৈ হনুমান চালীসা। হোয সিদ্ধি সাখী গউরীসা॥ ॥ ৩৯ ॥
Jo Yah Padhai Hanuman Chalisa, Hoy Siddhi Sakhi Gaurisa.
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয মঁহ ডেরা॥ ॥ ৪০ ॥
Tulsidas Sada Hari Chera, Keejai Nath Hriday Mah Dera.
সমাপনী দোহা Ending Doha সমাপনী দোহা সমাপনী দোহা (ভাবার্থ)
পবনতনয সংকট হরন, মংগল মূরতি রূপ।
রাম লখন সীতা সহিত, হৃদয বসহু সুর ভূপ॥
Pawantanay Sankat Haran, Mangal Murati Roop.
Ram Lakhan Sita Sahit, Hriday Basahu Sur Bhoop.

হনুমান চালিশার বাংলা অর্থ ও মূল ভাব

গোস্বামী তুলসীদাস বিরচিত শ্রী হনুমান চালীসা সনাতন ভক্তিসাহিত্যের এক অনুপম আধ্যাত্মিক রত্ন। কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই পবিত্র স্তোত্র শুধুমাত্র একটি কাব্য নয়, বরং সংকটমোচন ও অভয়লাভের পরম আশ্রয়। বাংলা ভাষায় হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa in Bengali) পাঠ করার সময় এর প্রতিটি চৌপাই ও দোহার অন্তর্নিহিত ভাবার্থ উপলব্ধি করা সাধনার গভীরতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে। এই স্তোত্রের মূল ভাব চারটি প্রধান আধ্যাত্মিক স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত:

  • শ্রীরামের প্রতি অনন্য ভক্তি ও দাস্য ভাব: হনুমানজীর সমগ্র অস্তিত্ব শ্রীরামচন্দ্রের চরণকমলে সমর্পিত। চালিশার সারকথা হলো—যেখানে রামভক্তি পূর্ণতা পায়, সেখানেই পবনপুত্রের কৃপা স্বভাবসিদ্ধ রূপ লাভ করে।
  • শক্তি ও বিনম্রতার অনুপম সমন্বয়: শ্রীহনুমান অতুলনীয় বীর ও অপরিমেয় শক্তির আধার। তিনি সাগর লঙ্ঘন করেছিলেন ও লঙ্কা দহন করেছিলেন, অথচ তাঁর অন্তরে লেশমাত্র অহংকার ছিল না। এই শ্লোকমালা আমাদের শিক্ষা দেয় যে অপরিসীম ক্ষমতার মাঝেও বিনম্র ও নির্লোভ থাকা প্রকৃত জ্ঞান।
  • ভয়মুক্তি ও সংকট নিবারণ: "ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥" — ভক্ত হৃদয়ে এই পংক্তি সর্বপ্রকার মানসিক ভীতি, শোক ও অনিশ্চয়তা দূর করে এক অবিচল নির্ভরতা এনে দেয়।
  • জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিঃস্বার্থ সেবা: হনুমানজী হলেন জ্ঞান গুণ সাগর। তিনি অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধির দাতা। তাঁর জীবন নিঃস্বার্থ লোককল্যাণ ও ঈশ্বরের আদেশ পালনের শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত।

হনুমান চালিশার ইতিহাস

ষোড়শ শতাব্দীতে (১৬শ শতক) উত্তর ভারতে যখন ভক্তি আন্দোলনের ধারা প্রবহমান ছিল, তখন রচিত হয় এই কালজয়ী স্তোত্র। প্রথাগত সংস্কৃত ভাষার পরিমণ্ডলের বাইরে সাধারণ মানুষের সহজ-সরল লোকভাষা অবধি-তে এটি রচিত হয়, যাতে প্রতিটি সাধারণ ভক্ত হৃদয়ের গভীর থেকে ঈশ্বরের গুণগান করতে পারেন। কিংবদন্তি অনুসারে, কাশীতে অবস্থানকালে কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তুলসীদাসজীর অবিচল ভক্তির প্রভাবে এই দিব্য চল্লিশটি স্তবক আত্মপ্রকাশ করে এবং আজ শতাব্দী পেরিয়েও কোটি কোটি ঘরে নিত্য পাঠের এক অনন্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।

হনুমান চালিশা কে রচনা করেছেন

শ্রী হনুমান চালিশার রচয়িতা হলেন পরম রামভক্ত সন্ত কবি গোস্বামী তুলসীদাসজী। তিনি অমর মহাকাব্য শ্রীরামচরিতমানস, বিনয় পত্রিকা, কবিতাবলী ও দোহার রচয়িতা। তুলসীদাসজী বিশ্বাস করতেন যে শ্রীহনুমানের কৃপা ব্যতীত শ্রীরামচন্দ্রের পরম অনুকম্পা লাভ সম্ভব নয়। তাই তিনি হনুমানজীকে রামদ্বারের রক্ষক ও সেবক রূপে বন্দনা করে এই অনুপম স্তোত্র রচনা করেছিলেন।

হনুমান চালিশার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

সনাতন ঐতিহ্যে হনুমান চালিশা কেবল একটি স্তোত্র নয়, এটি আত্মিক পুনর্জাগরণের মহাশক্তি। ভক্তিভরে এর শ্লোক আবৃত্তি করলে চিত্ত শুদ্ধ হয়, মনের দ্বিধা ও অবসাদ দূরীভূত হয় এবং আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনের জটিল সংকটকালে এই স্তোত্র পাঠ অন্তরে অদ্ভুত স্থিরতা ও মানসিক শান্তির সঞ্চার করে।

হনুমান চালিশা কখন পাঠ করা ভালো?

হনুমান চালিশা যেকোনো দিন ও যেকোনো সময়ে পাঠ করা শুভ। তবে শাস্ত্রীয় পরম্পরা ও ভক্তদের গভীর বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমানজীর উপাসনার জন্য বিশেষভাবে প্রশস্ত। সময়ের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের পূর্বে ব্রাহ্ম মুহূর্তে অথবা সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা আরতির সময় প্রদীপ প্রজ্বলন করে একাগ্র চিত্তে পাঠ করা সর্বাধিক ফলপ্রসূ বিবেচিত হয়।

হনুমান চালিশা কীভাবে পাঠ করবেন?

হনুমান চালিশা পাঠের আদর্শ ও সহজ নিয়ম নিচে উল্লেখ করা হলো:

  1. শুদ্ধতা অর্জন: প্রাতঃকালে স্নান সেরে অথবা সন্ধ্যায় হাত-মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন পোশাকে উপবেশন করুন।
  2. আসন ও দিক: শান্ত ও পরিচ্ছন্ন স্থানে লাল বা কুশের আসনে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসুন।
  3. দীপ প্রজ্বলন: শ্রীরামচন্দ্র ও পবনপুত্র হনুমানের প্রতিকৃতির সম্মুখে তিল তেল বা ঘিয়ের প্রদীপ এবং ধূপ জ্বালান।
  4. মনোযোগ ও পাঠ: প্রথমে শ্রীরামচন্দ্রের স্মরণ করুন, এরপর সূচনাকারী ২টি দোহা, ৪০টি চৌপাই এবং অন্তিম সমাপনী দোহা শুদ্ধ উচ্চারণে ভক্তিভরে পাঠ করুন।
  5. সমাপ্তি: পাঠ শেষে পবনপুত্রের চরণে প্রণাম নিবেদন করুন এবং সম্ভব হলে ভোগ বা নৈবেদ্য অর্পণ করুন।

হনুমান চালিশা পাঠের সময় কী কী বিষয় মনে রাখা উচিত?

পাঠের সময় তাড়াহুড়ো না করে শব্দের স্পষ্ট উচ্চারণ ও ভাবার্থের প্রতি সজাগ থাকা প্রয়োজন। অন্তরে কোনো প্রকার ক্রোধ, দ্বেষ বা অহংকার না রেখে নিষ্কাম ভক্তি নিয়ে পাঠ করাই বাঞ্ছনীয়। হনুমান চালিশা পাঠের সারকথা হলো আত্মশুদ্ধি ও শরণাগতি; তাই পবিত্র চিত্তে শ্রদ্ধা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হনুমান চালিশায় কতটি চৌপাই রয়েছে?

হনুমান চালিশায় সর্বমোট ৪০টি চৌপাই (চতুষ্পদী স্তবক) রয়েছে, যে কারণে এর নাম হয়েছে 'চালিশা'। এই ৪০টি চৌপাই ছাড়াও স্তোত্রের শুরুতে ২টি সূচনাকারী দোহা ("শ্রীগুরু চরণ সরোজ রজ...") এবং শেষে ১টি সমাপনী দোহা ("পবনতনয় সংকট হরণ...") রয়েছে। সম্পূর্ণ স্তোত্রে শ্রীহনুমানের বীরত্ব, সুরেশ্বরের সহায়তা, সীতামাতার আশীর্বাদ ও রামভক্তির দিব্য লীলা সুন্দরভাবে গ্রথিত রয়েছে।

FAQ সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর

শ্রী হনুমান চালীসা – সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

ষোড়শ শতাব্দীতে ভক্ত কবি গোস্বামী তুলসীদাসজী অবধি ভাষায় শ্রী হনুমান চালিশা রচনা করেন। এতে পবনপুত্র শ্রীহনুমানের বীরত্ব, রামভক্তি, প্রজ্ঞা ও অসীম কৃপার বর্ণনা রয়েছে।

ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমান চালিশা পাঠের জন্য মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষভাবে শুভ। দিনের বেলায় ব্রাহ্ম মুহূর্তে (সূর্যোদয়ের পূর্বে) অথবা সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলন করে শান্ত চিত্তে পাঠ করা সর্বাধিক কল্যাণকর বলে মনে করা হয়। তবে যেকোনো দিন ভক্তিভরে এটি পাঠ করা যায়।

হ্যাঁ, যেকোনো ভাষায় শুদ্ধ ভক্তি ও আন্তরিক শ্রদ্ধার সাথে হনুমান চালিশা পাঠ করা যায়। মূল স্তোত্রের অন্তর্নিহিত ভাবার্থ উপলব্ধি করে বাংলায় লিরিক্স পাঠ (Hanuman Chalisa Bengali lyrics) বা এর বাংলা ভাবার্থ অনুধাবন করা আধ্যাত্মিক সাধনায় সমানভাবে ফলপ্রসূ।

'চালিশা' শব্দটি এসেছে 'চল্লিশ' (৪০) সংখ্যা থেকে। এই পবিত্র স্তোত্রে সূচনা ও সমাপ্তির দোহা ছাড়াও মোট ৪০টি চৌপাই বা স্তবক রয়েছে, যার মাধ্যমে শ্রীহনুমানের গুণগান ও কৃপা প্রার্থনা করা হয়েছে।

নিয়মিত ভক্তিসহকারে হনুমান চালিশা পাঠ করলে মন থেকে ভয়, দ্বিধা ও নেতিবাচক চিন্তা দূর হয় এবং মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস। সনাতন পরম্পরায় সংকট মোচনে ও শ্রীরামের আশীর্বাদ লাভে এই পাঠ অত্যন্ত শুভ।

কোনো জটিল আচারের প্রয়োজন নেই; মূল প্রয়োজন শুদ্ধ চিত্ত ও আন্তরিক ভক্তি। পাঠের পূর্বে স্নান সেরে বা হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া, শান্ত আসনে বসা এবং শ্রীরামচন্দ্র ও পবনপুত্র হনুমানের ধ্যান করে পাঠ শুরু করা উত্তম।

সাধারণত ভক্তরা দিনে অন্তত একবার হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বিশেষ দিনে যেমন মঙ্গলবার বা শনিবারে ৩ বার, ৭ বার, ১১ বার কিংবা সুবিধামতো ১০৮ বার পাঠের ঐতিহ্য প্রচলিত রয়েছে। তবে সংখ্যার চেয়ে একনিষ্ঠ ভক্তি ও একাগ্রতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠের সময় পবিত্রতা বজায় রাখা, ধীরস্থিরভাবে শুদ্ধ উচ্চারণে পাঠ করা এবং মনে কোনো অহংকার বা অশুভ ভাব না রাখা বাঞ্ছনীয়। পাঠের সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ শ্রীরাম ও হনুমানজীর চরণে নিবেদন করাই মূল নিয়ম।
Bengali Bhakti Portal

Explore authentic devotional hymns, stotras, and chalisas accurately translated into Bengali (বাংলা) script with complete spiritual meanings.

All Bengali Prayers